দাম্পত্যকে সুখী করুন দু’জনে মিলে

দাম্পত্য জীবনে আপনার প্রতিটি সময়ই যে একদম সুখে কেটে যাবে এমন কিন্তু নয়। কর্মব্যস্ততায় দুজনের মধ্যে একটু দুরত্বতো হতেই পারে। আর সেটাকে কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা কিন্তু আপনাদের দুজনকেই করতে হবে। মান-অভিমান, ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি এটাতো নিত্তনৈমেত্তিক ব্যাপার তাই বলে হাল ছেড়ে দিয়ে একে-অপরের মুখ দেখা যাবেনা এমনটি একটি দম্পতির সুখের সংসারে কাম্য নয়।

যদি মনে করেন আপনার জীবনে প্রতিদিন এটাই ঘটছে তাহলে দেরী না করে দুজন একসঙ্গে বসুন প্রয়োজনে কাছের কোনো বন্ধু অথবা পরিবারের সদস্যকে সাথে নিন। কি কি ঝামেলা হচ্ছে আপনাদের সংসারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করুন দেখবেন একটি সমাধান অবশ্যই বের হয়ে আসবে। এছাড়া নিচে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো- নতুন অথবা পুরানো যে কোনো দম্পতির জন্যই কাজে আসবে।

মাথা ঠান্ডা রাখুন ও চিন্তা করুনঃ
সারাদিনে যখনই দুজন কলহতে জড়াবেন তখনই কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে একজন চুপ হয়ে যান। সারাটা দিন কর্ম ব্যস্ততায় কাটিয়ে রাতে যখন ঘুমাতে যাবেন তখন চিন্তা করে দেখুন কি কারনে দুজনের মধ্যে এমন হচ্ছে, দোষটা কার, সে চেষ্টা করুন তার সমস্যা গুলো বের করে আস্তে আস্তে সমাধানের এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা সুন্দর সকাল একে অপরকে দিতে। দুজন দুজনকে সরি বলার অভ্যাস করুন কে আগে সরি বললো এই আশায় থেকে সমস্যা আরও জটিল না করে দুজন দুজনকে বোঝার এটুকু সময় দিন।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানঃ
বিশ্বাসের জায়গাটাকে মজবুত করুন। যদি কখনো বিশ্বাস কোনো কারনে ভেঙ্গেও যায় তাহলে একটা চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আর একবার দম্পত্যকে সুযোগ দিন কারন অনেক সময় আপনার জীবনসঙ্গীটি তার ভুল বুঝতে পেরে আবার ও নতুন করে শুরু করতে পারে এতে অনেক সময় দেখা যায় আগের চেয়ে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।

ঘুরে আসুন দুরে কোথাওঃ
বছরে অন্তত দুইবার সময় বের করুন দুজনকে দেয়ার জন্য। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে দুজন ঘুরে আসুন এমন কোথাও যেখানে অনেকটা সময় একান্ত সান্নিধ্যে কাটাতে পারবেন। এতে করে দুরত্ব কমে আসবে এবং সম্পর্ক আরও গাড়ো হবে।

একান্ত সময় বের করুনঃ
হোক ঝগড়া হোক মনমালিন্য সব ভুলে যান। শুধু একান্তে সময় দিন দুজনকে। একটু কেনাকাটা করুন নিজেদের জন্য ও যদি সম্ভব হয় পরিবার-পরিজনের জন্য্ও কেনাকাটা করুন। এছাড়া, মাঝেমাঝে বাইরে খেতে যেতে পারেন এতে ভালোবাসা দৃঢ় হবে।

ঘরের কাজ করুন একসাথেঃ
স্ত্রীকেই যে ঘরের সব কাজ করতে হবে এমনটি না করে চাইলে পুরুষটি ও স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করতে পারেন। এতে একজন আর একজনের প্রতি আস্থা বাড়বে ও ভালোবাসা অটুট হবে।

দাম্পত্য জীবনে একেবারেই সুখী আছে এমন দম্পতি নেই বললেই চলে। সুখ- দুঃখ মিলিয়ে একটি সংসার হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেটা যেন জটিল না হয়ে যায় এর জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনকইে হতে হবে সহনশীল ও আস্থাভাজন। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম্ও হবে নিরাপদ।

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন