মুক্তাগাছায় প্রশিক্ষকের অবহেলায় সংস্কৃতি চর্চা কর্মসূচীর বেহাল দশা

মুক্তাগাছা উপজেলার বিভন্নি মাধ্যমিক পর্যায়ে সঙ্গীত প্রশিক্ষকদের অনিয়মিত হাজিরার কারনে সংস্কৃতি চর্চা কর্মসূচীর বেহাল দশা।  নিয়মিত ক্লাশ না করিয়ে সম্মাণী-ভাতা উত্তোলণের অভিযোগ উঠেছে প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে।  ফলে মুক্তাগাছা উপজেলার উচ্চ বিদ্যালয়সমূহে সরকারের সাংস্কৃতিক চর্চা কর্মসূচী ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়েছে।

মুক্তাগাছা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে সঙ্গীত প্রশিক্ষকদের অনিয়মিত হাজিরার কারনে সংস্কৃতি চর্চা কর্মসূচীর বেহাল দশা।  নিয়মিত ক্লাশ না করিয়ে সম্মাণী-ভাতা উত্তোলণের অভিযোগ উঠেছে প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে।  ফলে মুক্তাগাছা উপজেলার উচ্চ বিদ্যালয়সমূহে সরকারের সাংস্কৃতিক চর্চা কর্মসূচী ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০১৯ সালের মে মাসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চ বিদ্যালয়সমূহে সাংস্কৃতিক চর্চা কর্মসূচীর আওতায় মুক্তাগাছা উপজেলার ৪৫ টি স্কুলে সঙ্গীত প্রশিক্ষক ২০ ও তবলাবাদক হিসেবে ১৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।  যেখানে প্রশিক্ষকদের একটি বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাসিক ২ হাজার সম্মাণী ভাতা ও তবলাবাদককে ১৫শ টাকা মাসিক সম্মাণী ভাতা নির্ধারণ করা হয়।  নিয়োগে স্থানীয় শিল্পীদের উপেক্ষা করে জেলার ত্রিশাল ও গফরগাঁওয়ের শিল্পীদের নিয়োগ দেয়া হয়।  ফলে ঐসব এলাকার নিয়োগপ্রাপ্ত অনেকেই বিদ্যালয়ে না গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে সম্মাণী ভাতা গ্রহণ করেছেন।  বিধি মোতাবেক সপ্তাহে ২ দিন ক্লাস করানোর কথা থাকলেও কেউ কেউ ৩/৪ মাস পরপর ২/১ বার, কেউ মাসে ২/৩ দিন আবার কেউ মাসের পর মাস একদিনও ক্লাশ করাননি।  প্রতিনিয়ত অনুপস্থিত থাকার কারনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সঙ্গীত প্রশিক্ষক ও তবলাবাদকদের মাসিক উপস্থিতির প্রত্যয়ণ জমা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও সুবর্ণা সরকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভিজিট করে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত প্রশিক্ষকদের গাফিলতির কারনে জাতীয় সঙ্গীত ঠিক মতো গাইতে পারে না।  তিনি আরো বলেন, সরকার সঙ্গীত চর্চা বিকাশের জন্য এত টাকা সম্মাণী ভাতা প্রদান করবে আর প্রশিক্ষকদের গাফিলতির জন্য শিক্ষার্থীরা চর্চার অভাবে সঙ্গীতে পিছিয়ে যাবে এটা কাম্য নয়।  এখন থেকে নিয়মিত হাজিরার বিষয়টি নিশ্চিত না করে তাদের সম্মাণী ভাতা প্রদান করা হবে না।  এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পীদের উপেক্ষা করে অন্য উপজেলা থেকে নিয়োগ দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  এত অল্প টাকার সম্মাণীতে অন্য উপজেলা থেকে কোন শিল্পীরই নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব নয়।  সংস্কৃতির পুরোধা মুক্তাগাছা উপজেলা থেকে সঙ্গীত শিল্পী নিয়োগ দেয়া হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না মনে করেন স্থানীয় সুধী সমাজ।

মুক্তাগাছা উপজেলাস্থ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী বলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের এ উদ্যোগটি চমৎকার।  তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটিতে স্থানীয় শিল্পীদের সংযুক্ত করতে পারলে কাজের প্রতি দরদ ও দায়বদ্ধতায় আরো সুন্দর হতো।  যতটুকু জানি স্থানীয় শিল্পী বাদে অধিকাংশ শিল্পীরাই নিয়মিত ক্লাশ করায়নি।  সরকারের এ বাজেট শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত ও তবলাবাদন শেখার জন্য।  এটা তদারকি করা উচিত ছিল।  আমরা চাই এ কর্মসূচী মুক্তাগাছায় থাকুক এবং মুক্তাগাছার প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের নিয়ে নতুন টিম গঠন করে একে আরো অনন্য গতিশীলতায় নিয়ে যাওয়া হোক।

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন