ফাইনালের আগে এক সাক্ষাতকারেই ভাইরাল টাইগার ব্যাটসম্যান নাবিল

আজ রবিবার আর কয়েকঘণ্টা পর যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ আর ভারত। প্রতিবেশি দুই দেশই টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছে।

আজ রবিবার আর কয়েকঘণ্টা পর যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ আর ভারত। প্রতিবেশি দুই দেশই টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছে। দুই দলই কোনো ম্যাচ হারেনি। ফাইনালের আগে আইসিসির ভিডিও প্রোগ্রামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাটসম্যান প্রান্তিক নওরোজ নাবিল। এত সুন্দর এবং স্মার্টলি তিনি কথা বলেছেন যে, এক সাক্ষাতকারেই মন জিতে নিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। যদিও চলতি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচেই সুযোগ পাননি ১৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

প্রান্তিকের কথায় ফুটে উঠেছে তার পরিণত মানসিকতা আর দেশের প্রতি ভালোবাসা, ‘খেলা শুরুর পর প্রতিটি ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। এটাই প্রথম স্বপ্ন, দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো। তারকা হব, এটা নয়। দেশের হয়ে কিছু করার আগে কেউ যদি ভেবে থাকে তারকা হবে, আমি মনে করি সে বেশি দূর যেতে পারবে না। তাই দেশাত্মবোধটাই সবার আগে। এই দলে ১৫ জনের সবাই শিরোপা জিততে চায়, দেশকে জেতাতে চায়। আমরা এমন কিছু উপহার দিতে চাই ভবিষ্যতে সবাই যেন তা মনে রাখে।’

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। সিনিয়র জাতীয় দলও কখনো এই কাজ করে দেখাতে পারেনি। কীভাবে একটি দল হয়ে খেলছে যুবারা? প্রান্তিক জানান, ‘এর কারণ আমরা দুই বছর ধরেই একটা দল হিসেবে খেলছি। আমাদের অনেকেই অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ একসঙ্গে খেলেছে। দুই বছর সময় কম হতে পারে কিন্তু যখন একটা দলের সবাই একসঙ্গে ক্যাম্প করে, এক জায়গায় থাকে তখন সেটা পরিবার হয়ে যায়। এটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা বলতেই হবে। আমরা অনেক চাপের মুহূর্ত সামলেছি। প্রতিটি ম্যাচেই কিছু না কিছু শিখেছি। অনেকটাই পরীক্ষার মতো। প্রতিটি পরীক্ষায় প্রতিবারই নতুন প্রশ্ন—কখনো দ্রুত উইকেট হারিয়েছি, কখনো আবার ভালো শুরু পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই দলে সবারই কিছু না কিছু ভূমিকা আছে। কেউ তারকা হওয়ার চেষ্টা করে না। খুব সাধারণ পরিকল্পনা, সতীর্থরা একে অপরের ওপর আস্থা রাখে। কেউ কাউকে দোষারোপ করে না। কেউ ডাক মারতেই পারে, কিন্তু সেদিন যে ভালো খেলেছে, আমরা তাকে নিয়ে কথা বলি। তখন ওই খেলোয়াড়ও সমর্থন দেবে এবং ভাববে আজ তুমি দেশকে জেতালে, কাল আমি জেতাব। এমন মানসিকতা দু-এক দিনে গড়ে ওঠেনি। মাঠ ও মাঠের বাইরে এটি দলীয় ঐক্যের ফসল। এখন আমরা যেকোনো পরিস্থিতি সামলাতে পারি। কারণ দলের সবাই জানে, কেউ না কেউ পারফর্ম করবে।’

তবে দলের এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাগল দর্শকদের ভূমিকাও স্বীকার করতে ভোলেননি প্রান্তিক, ‘আমার ক্রিকেট খেলার শুরু থেকেই বাংলাদেশের সমর্থকেরা সেরা। খেলার জন্য দল দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের মাঠে দেখা যায়। যেমন এই দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। আমি জানি আরও অনেক সমর্থক আছেন যারা আমাদের জন্য প্রার্থনা করছেন। আমরা যেন চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, সেটাই তাদের চাওয়া। সবার প্রতি অনুরোধ, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। এ পর্যন্ত আসতে সমর্থকদের যে উষ্ণ ভালোবাসা আমরা পেয়েছি, সে জন্য কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ আমাদের পাশে থাকার জন্য। আপনাদের সমর্থন আমাদের প্রেরণার বড় উৎস। আমরা আপনাদের সম্মান রাখার চেষ্টা করব।’

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন