বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা কয়েক দফায় সময় নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালতের ভবন ভাঙার রায় দেওয়ার পর ।  গত ১২ এপ্রিল শেষ হয় আদালতের দেওয়া সাত মাস সময়সীমা।

ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে ১৫ তলা ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেন রাজউক কর্মকর্তারা। ভবন ভাঙার আধুনিক সব যন্ত্রপাতিও রয়েছে তাদের সঙ্গে।

রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এই ভবনের বিভিন্ন তলায় ১৯টি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। আমরা আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নিতে বলছি।

“এটা ভবন ভাঙার কাজেরই একটা অংশ। যেহেতু অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান তাদের অনেক মালামাল, সেগুলো সরাতেও কিছুটা সময় লাগবে। এরপর আমরা ভবন ভাঙার কাজ শুরু করব।”

অলিউর বলেন, “ভবন ভাঙার জন্য আমাদের বুলডোজারসহ অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুত । এই ভবনে ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিস আছে। ব্যাংকের ভল্টে টাকাসহ অফিসের অন্য মালামাল তারা সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

“আমাদের কাছ থেকে তারা দুই ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছে। আমরা তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় এবং সুযোগ দিয়েছি।”

ভবন ভাঙা শুরুর আগে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে রাজউক।

কীভাবে এই ভবন ভাঙা হবে- জানতে চাইলে অলিউর বলেন, “আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাঙা হবে। সেটা ডিনামাইট ব্যবহার বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হতে পারে।”

এর আগে ঢাকায় বড় ভবন ভঙার একটি ঘটনাই ঘটেছিল; এক যুগ আগে তেজগাঁওয়ের সেই র‌্যাংগস টাওয়ার ভাঙার সময় দুর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।

সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার চার দিন পর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গে রাজউক কর্মকর্তা অলিউর বলেন, “মহামান্য হাইকোর্ট ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। কিন্তু মাঝখানে কয়েকদিন বন্ধ ছিল, এরপর কর্মদিবস শুরু হয়েছে, আমরাও আমাদের কাজ শুরু করেছি।”

ভবন ভাঙার কাজ বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে।

কিন্তু তাদের জলাশয় ভরাট করে ভবন তুলতে মানা করা হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানান। জমি দেওয়ার সময়ও তিনিই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন শুরুতেই অভিযোগ তুলেছিল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ্যমে ওই ভবন তোলা হয়েছে।

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন