বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের ‘নবশক্তি’

বুধবার মহাশক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ২০ রানের এই জয় শুধুই একটি জয় নয়। আর বেশী কিছু। এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া গেছে অনেক বার্তা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মুশফিকুর রহিমের বাংলাদেশ পেয়ে গেছে ক্রিকেটের নব শক্তির খেতাব! এমনকি বাংলাদেশকে অবিহিত করা হচ্ছে ক্রিকেটের ‘নতুন শ্রীলঙ্কা’ হিসেবে! বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার রাসেল আর্নল, দুজনেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন সত্যিই বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটের ‘নতুন শ্রীলঙ্কা’। উপমহাদেশের নতুন সুপার পাওয়ার!
সেই শ্রীলঙ্কা অবশ্য নিজেদের সুবর্ণ সময় হারিয়ে এখন ধুকছে। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে শ্রীলঙ্কার সেই জায়গাটাই এখন নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই সমীহ জাগানিয়া দল। প্রতিনিয়তই তুলে নিচ্ছে জয়। ওয়ানডের সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে মুশফিকের দলের টেস্টেও উন্নতিটা চোখে পড়ার মতো। গত বছর নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় এবং দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র করে এই উত্থান যাত্রা শুরু!
এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বারের মতো ভারত সফরে গিয়ে একমাত্র টেস্টে দারুণ লড়াই করা। তার পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় এবং সিরিজ ড্র করা। সেই ধারাবাকিতায় এবার আরও বড় সাফল্য। পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মুশফিকের দল প্রমাণ করেছে, তারা আসলেই এখন ক্রিকেটের নব শক্তি।
শুধু জয়ই নয়, একটা দল কতটা উন্নতি করেছে সেই চিত্রটা ফুটিয়ে তোলে দলটির খেলোয়াড়দের মনোভাব। তারা মাঠে সাফল্য পেতে কতটা মরিয়া থাকে, কতটা আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, সেটাই আসলে মানদণ্ড। গত এক বছরে মুশফিকের এই দল প্রমাণ করতে পেরেছে ওয়ানডের মতো এখন টেস্টেও তারা জয় পেতে মরিয়া। তা প্রতিপক্ষ যত বড়ই হোক, মাঠে লক্ষ্য থাকে একটাই-জয়!
বাংলাদেশের গায়ে ‘নতুন শ্রীলঙ্কা’ উপমা জুড়ে দিতে গিয়ে অবশ্য অন্য একটা প্রসঙ্গওেউঠে এসেছে। মধ্য নব্বইয়ে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ‘বিল্পব’ ঘটানোর পেছনে ছিলেন অরবিন্দ ডি সিলভা, সনাত জয়াসুরিয়া, মুত্তিয়া মুরালিধরন, চামিন্দা ভাসদের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বর্তমান বাংলাদেশে কি সেই মানের প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে?
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করা হাবিবুল বাশার সুমন মনে মরিয়ে দিয়েছেন, এই বাংলাদেশ দলে বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান আছেন। আছেন তামিম-মুশফিকদের মতো ক্রিকেটার। হাবিবুল বাশারের বিশ্বাস এরা নিজেদের ক্রিকেটের নতুন শক্তি হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন অনেক দূর, ‘হ্যাঁ, শ্রীলঙ্কার ওই গ্রুপটা ছিল অসাধারণ। তবে বাংলাদেশ দলেও সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন অসধারণ ক্রিকেটার আছে। ওই শ্রীলঙ্কানদের এদের অনেকেই একই ভাবে দলকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দিতে পারবে।’
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪৪টি টেস্ট খেলা রাসেল আর্নল স্পষ্টই স্বীকার করলেন, মুশফিকের এই দলের মাঠের মনোভাব ঠিক নব্বইয়ের দশকের শ্রীলঙ্কা দলের মতোই আগ্রাসী। বলেছেন, নব্বইয়ের দশকের শ্রীলঙ্কা এবং এই বাংলাদেশের মনোভাব একই রকম, হ্যাঁ দুটি দলই খুব সংঘবদ্ধ এবং লড়াকু।
বর্তমানে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করা রাসেল আর্নল টেনে এনেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের যোগসূত্রের বিষয়টিও, আপনাকে ভুলে গেলে চলবে না যে, তাদের কোচ একজন শ্রীলঙ্কান, চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি আমাদের দেশের হয়ে ওই সময়টাতেই টেস্ট খেলেছেন। তিনি ভালো করেই জানে, একটা দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কী করতে হবে। সম্ভবত তিনি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের শিক্ষাটাই বর্তমান বাংলাদেশ দলে প্রয়োগ করছেন।
দল হিসেবে ক্রিকেটের নব শক্তির এই উপমা মুশফিক-সাকিব-তামিমদের নিশ্চয় আরও উজ্জীবিত করবে।

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন