না ফেরার দেশে আব্দুল জব্বার

না ফেরার দেশ চলে গেলেন বাংলা গানের কিংবদন্তি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বিএসএমএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ-আল-হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে আব্দুল জব্বারের ছেলে মিঠুন জানান, তার বাবার মরদেহ কলাবাগানের ভুতের গলির বাসায় নেওয়া হবে। সেখানে নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে কোথায় তার বাবার জানাজা ও দাফন হবে। জনপ্রিয় এ কণ্ঠশিল্পী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হার্ট, প্রস্টেট ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি বিএসএমএমইউতে প্রায় তিন মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউয়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তার মৃত্যুতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী তিমির নন্দী শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ দেশে তার উপর কোনো আর্টিস্ট ছিল না। আব্দুল জব্বার এ দেশের সম্পদ। তিনি শুধু সংগীতে অবদান রাখেননি, তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অবদান রেখেছেন। তার অসংখ্য গান কালজয়ী হয়েছে। যে কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দেখেছি তার অনেক ভক্ত নিজ থেকেই বলেছেন, আমরা কিডনি দেব। ভক্তদের এই ভালোবাসা পাওয়া বিরল ঘটনা।

আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গান গাওয়া শুরু ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে । প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন তিনি ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান।

চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন প্রথম ১৯৬৪ সালে। সে বছর জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সংগমের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এরপর ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৮ সালে সারেং বৌ ছবিতে আলম খানের সুরে তার গাওয়া ‘ও..রে নীল দরিয়া’ গানটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন। তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতেও নিরলসভাবে কাজ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় বিভিন্ন সময় গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

আরো দেখুন

Close
Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন