রিমান্ডে সাফাত-সাকিফ : ঘটনা পরিকল্পিত

রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। রিমান্ডের প্রথম দিনে পুলিশের কাছে এ তথ্য জানিয়েছে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ। এর আগে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল শনিবার সকাল থেকে তাদের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই তরুণীকে ধর্ষণের পরিকল্পতা আগে থেকেই করে রেখেছিলেন সাফাত ও তার বন্ধুরা। এ জন্য সাফাতের জন্মদিনের উপলক্ষটাকে তারা বেছে নেন। এ ছাড়া ওই হোটেলে দুটি রুম সাফাতের বন্ধু ও হোটেলের মালিকের ছেলে মাহিনের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হয়। যেন এ বিষয়ে তাদের কেউ সন্দেহ না করে এবং কেউ কিছু জিজ্ঞাসা না করে। সূত্র জানায়, রিমান্ডে তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও তারা ঘটিয়েছেন। তবে অন্যদেরকে তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে থামিয়ে রেখেছিলেন।

ভিডিওর বিষয়টি অস্বীকার সাফাত-সাকিফের। ২৮ মার্চ রাতে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করিয়েছিলেন সাফাত, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন ভিকটিম দুই তরুণী। তবে পুলিশী রিমান্ডে বিষয়টি অস্বীকার করছেন অভিযুক্তরা। তারা বলছেন, ওই রাতে তারা কোনো ভিডিও করেননি। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে যে মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করেছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সেগুলোতেও কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্তরা যেহেতু ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছেন সেহেতু তারা ভিডিওও করতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হয়ত তারা এটি ডিলিট করে দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইসমত আরা জানান, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তারা এ ধরনের আরো বেশ কয়েকটি অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ নিজের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত করে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই দুই তরুণীকে। সেখানে অস্ত্রের মুখে তাদের হোটেল কক্ষে আটকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার ৪০ দিন পর ৬ মে সন্ধ্যায় বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

আরো দেখুন
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker