আয়মান নদী আমি – ফেরদৌস তাজ

হাজারো বাঁধের পথে আটকে আমার গতিধারা
চোখে পড়ে কচু শেওলার বন
রাজঘাটে উঁচু দেয়ালের ছোট্ট জানালায়
একদলা থুতু জমে উঠে
আমি স্থবির
বিধায় ছুড়তে পারি না!

সময়ের কথা ভেবে ভেবে আক্ষেপের ডালে
হাওয়ায় দুলতে দুলতে শত বছরের ভীড়ে
ফীরে যেতে ইচ্ছে করে

কতোই না জীবন্ত যৌবনা ছিলাম আমি
হেসে ভেসে যেতো কতো কচুরীর কুল
ফুটে উঠতেই কিশোরীর কেশ
তরঙ্গায়িত ঢেউ হয়ে ছুঁয়ে দিতাম
লাজুক বাসনা জেগে ছুটে যেতাম পাবদা চিংড়ি ছুঁচে

সেদিন
যেদিন বক্ষে আচার্য রাণী ঢলে
রূপের সুধায় আজলা দুখানি মেলে
স্বাদের পেয়ালায় গড়লো রঙিন আসর
এ নয়না জলপৃষ্ঠেই হবে আমার বাসর..

প্রেমিক মন গলে
বিনোদবাড়ীর কুল ঘেঁষে চৌরঙ্গীর গাঁয়ে
আলতা পা নামলো
আবেশে মুক্তারাম চোখ ঝলমলে স্বর্ণ ডানা মেললো
সুখের পিদিমে টগবগে আলোয়
পরগনা জ্বলে ওঠেছিল সেদিন

তখন আমার হার না মানা প্রবাহে
বিন্দুমাত্র ভাটা পরেনি!
প্রগতি বর্ষায় ফুলে ফেঁপে উঠি
চেতনার ভোটকা চুমুক হারায় সবিশেষ
আটকে যাই দো’পেয়ের জালে
মর্দন, কর্ষণ, সিঞ্চনে ভোঁতা হতে থাকি প্রতিনিয়ত

কখনো হয় বাজেট
মিছিল-ব্যানার-ফেস্টুন
হয় কবিতা গান স্ট্যাটাসে ভরপুর ফেসবুক
হয় কতো জননীর আমার নামের নাম
শান্তি শান্তি লাগে
ঘুম আসে না..

নোংরা জলে ছল চড়িয়ে
শ্বাসরোধে ভুগি বারো মাস..
আমি আয়মান
আমার কষ্ট কেউ বুঝে না…!
অর্ধশত কি.মি বুকে সহস্র কুচ বিঁধলেও
আমার যন্ত্রণা কেউ শুনে না!

অনেকে আমার পায়ে পড়ে কাঁদে
প্রহসনের সুর খুঁজে
আমাকে শাসন করে
আদর করে মুক্ত করার আন্দোলন জপে ৫টি বছর পর
বাঁচাবে বলে পণ করে বিকোয় প্লট করে..
সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে বলে
ক্রয়সূত্রে এ জমি আমার…!

অনন্ত প্রকৃতি তোমাকে মুঠো দেই শাপ
আয়মান নদী আমি
আমাকে করো ধূলিসাৎ..!

-ফেরদৌস তাজ

আরো দেখুন

এই সম্মন্ধীয় সংবাদ

Back to top button
Close

অ্যাডব্লক সনাক্ত

আপনার বিজ্ঞাপন ব্লকার নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সমর্থন বিবেচনা করুন