আবারো রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে : জাতিসংঘের আশঙ্কা

0
67
আবারো রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে : জাতিসংঘের আশঙ্কা
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান মার্ক লকক

জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, মিয়নমার থেকে বাংলাদেশে আবারো রোহিঙ্গাদের ঢল নামতে পারে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান মার্ক লকক শুক্রবার এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে তিনি আবারো মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্স এর খবরে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। গত ছয় সপ্তাহে ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।  জাতিসংঘের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এ অভিযান ‘জাতিগত নিধন’। তবে মিয়ানমারের দাবি, তারা সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। অধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ৪০০ শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রামের অর্ধেকের বেশি জ্বালিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা। রাখাইন থেকে মুসলিম বিতাড়নের উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছে। মার্ক লকক বলেছেন, এ পরিস্থিতি ‘অগ্রহণযোগ্য’। রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমার সরকার। তবে অল্প কয়েকটি সংস্থা শহরাঞ্চলে তাদের অফিস করেছে এবং রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি রোহিঙ্গা অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দিতে মিয়ানমার রেড ক্রসকে সাহায্য করছে।

শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্ক লকক বলেন, মিয়ানমার থেকে লোকজনের আসা এখনো থামেনি। নিঃসন্দেহে মিয়ানমারে এখনো লাখ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে এবং আবারো যদি রোহিঙ্গাদের ঢল নামে (বাংলাদেশে), সে জন্য আমরা প্রস্তুত থাকতে চাই। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা মিয়ানমার সফর করবেন।

পৃথক ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জোয়েল মিলম্যান বলেছেন, মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে।’ এদিকে, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বাংলাদেশ পালিয়ে না আসতে রোহিঙ্গাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন তারা কিন্তু অবৈধ নাগরিকদের ঠেকানো যাচ্ছে না।

শুক্রবার মিয়ানমারের সরকারি বার্তা সংস্থা জানায়, মুসলিমদের একটি বড় সংখ্যা সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরো বলা হয়, ‘জীবিকা কঠিন হয়ে পড়া, স্বাস্থ্য সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতার ভয় এবং আরো সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা এমনটি করতে যাচ্ছে।