১৭ পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার না করলে দণ্ড

0
87
সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলন

এখন থেকে ১৭টি পণ্যে বাধ্যতামূলক পাটের মোড়ক ব্যবহার করতে হবে। না করলে তাৎক্ষণিক জেল জরিমানার শাস্তি দেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সারাদেশে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সোমবার থেকে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিবিবার দুপুরে সচিবালয়ে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’ বাস্তবায়ন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ কথা বলেন।তিনি বলেন, ১৭টি পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের মোড়ক (বস্তা বা ব্যাগ) ব্যবহার নিশ্চিত করতে সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের সড়ক, মহাসড়কে বিশেষ করে ১৭টি পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মির্জা আজম বলেন, বিশেষ অভিযান সফল করতে পাট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের সব দপ্তরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করবে। তা ছাড়া পাট মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী পাটের মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক দিয়ে পণ্য মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করার অনুমতি দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডিত হবেন। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। অভিযানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে। স্থানীয় বাজারে পাট ও পাটজাতপণ্যের চাহিদা বাড়বে। পাট চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং সর্বোপরি পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পাটশিল্প রক্ষা পাবে। ‘১৭টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশে উৎপাদন করা পাটের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পাট অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহার বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত পাটের ৯০ ভাগ রপ্তানি হয়, ১০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত হয়। কোনো দেশের অবস্থা ভালো থাকলে পাট রপ্তানি হয়, সেখানে অর্থনৈতিক মন্দাভাব দেখা দিলে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের কৃষকদের মুখে হাসি থাকে না। পাট শ্রমিকদের মুখে হাসি থাকে না। মালিকরা মিল বন্ধ করে দেন।

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর অধীনে গঠিত পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী এতদিন ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি পরিবহনে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন করে এ বছর বিধিমালার তফসিলে আরো ১১টি পণ্য যুক্ত করে ২১ জানুয়ারি গেজেট জারি করে সরকার। ১১টি পণ্য হলো মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা ও তুষ-খুদ-কুড়া। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের শাস্তি দেওয়াই হচ্ছে অভিযানের মূল বিষয়। তবে হাইকোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিলও করেছে। আশা করি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা যাবে, তারপরও না হলে সাধারণ আইন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাটের মোড়ক না থাকলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত পণ্যে আমদানি বা রপ্তানিকালে আইআরসি (আমদানি নিবন্ধন সনদ) ও ইআরসি (রপ্তানি নিবন্ধন সনদ) বাতিল করবে। তা ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয় চাতাল মিল মালিকদের পাটের ব্যাগে মোড়কিকরণ না করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করবে বলে নির্দেশনা জারি করেছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীরা ১৭টি পণ্য মোড়কিকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার না করলে ঋণ সুবিধা বাতিল করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারি করেছে।