আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসি বহাল

পাঁচ বছর আগে দিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে ২০১৩ সালে দেশটির একটি দ্রুত বিচার আদালত ওই চার আসামির ফাঁসির রায় দিলে পরের বছর হাইকোর্টেও তা বহাল থাকে।

চার আসামি অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত ও মুকেশ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ শুক্রবার চূড়ান্ত রায়ে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য ওই চার অপরাধীর।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির রাস্তায় চলন্ত বাসের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। নৃশংস ওই ঘটনার বীভৎসতায় আঁতকে ওঠে গোটা ভারত। ১৩ দিন পাঞ্জা লড়ার পর জীবনের কাছে হার স্বীকার করেন নির্ভয়া। ভারতজুড়ে প্রতিবাদে মুখর হয় মানুষ। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা।

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ পবন গুপ্তা (১৯), মুকেশ সিং (২৬), বিনয় শর্মা (২০), অক্ষয় সিং (২৮) কে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন  দিল্লির হাইকোর্ট।
২০১৪ সালের ১৩ মার্চ পবন গুপ্তা (১৯), মুকেশ সিং (২৬), বিনয় শর্মা (২০), অক্ষয় সিং (২৮) কে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন দিল্লির হাইকোর্ট।

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ মুকেশ, পবন, বিনয় শর্মা এবং অক্ষয় কুমার সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেন দিল্লির হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন চার অভিযুক্ত।

অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি ছিল, প্রত্যেকের পৃথক পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। চারজনেরই মৃত্যুদণ্ড রোধ করার পক্ষে আবেদন করেন তারা। তাদের যুক্তি ছিল, প্রত্যেকেই দরিদ্র পরিবারের এবং প্রত্যেকেরই বয়স কম। শেষপর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনজীবীদের দাবি খারিজ করে হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখলেন শীর্ষ আদালত।

নির্ভয়া-মামলার ঘটনা পঞ্জি
১২ ডিসেম্বর, ২০১২: দক্ষিণ দিল্লির চলন্ত বাসে ১৭ বছরের এক নাবালক-সহ ছ’জন মিলে ২৩ বছরের জ্যোতি সিংহকে গণধর্ষণ ও নৃশংস অত্যাচার।
২৯ ডিসেম্বর, ২০১২: সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু নির্ভয়া ওরফে জ্যোতি সিংহের।
১১ মার্চ, ২০১৩: তিহাড় জেলে আত্মঘাতী অভিযুক্ত রাম সিংহ।
৩১ অগস্ট, ২০১৩: জুভেনাইল কোর্টে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে নাবালক দোষী সাব্যস্ত। সংশোধনাগারে তিন বছরের কারাবাসের শাস্তি ঘোষণা।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩: চার জনকে ফাঁসির সাজা দিলেন  দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক যোগেশ খন্না।
১৩ মার্চ, ২০১৪:  দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রেবা ক্ষেত্রপাল ও বিচারপতি প্রতিভা রানির বেঞ্চ দায়রা আদালতে ফাঁসির সাজা বহাল রাখল।
১৫ মার্চ, ২০১৪: সুবিচার মেলেনি দোষীদের এই অভিযোগে ফাঁসি কার্যকর করায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের।
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫: জুভেনাইল কোর্ট থেকে দোষী নাবালকের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল দিল্লি হাইকোর্ট।
২ এপ্রিল, ২০১৬: ১৯ মাস পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি ভি গোপাল গৌড?া এবং বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শুরু।
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭: মামলায় সঠিক পদ্ধতি মানা হয়নি, সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন দোষীদের। পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের।
৬ মার্চ, ২০১৭:  সর্বোচ্চ আদালতে চার জন দোষীর অতিরিক্ত হলফনামা দায়ের।
২৭ মার্চ, ২০১৭:  প্রায় এক বছর ধরে শুনানির পর রায় স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট।
৫ মে, ২০১৭: দোষীদের মৃত্যুদন্ডের সাজা বহাল সুপ্রিমকোর্টে।

আরো দেখুন
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker